ফেসবুকের জন্ম দিনে
ফেসবুক। যেসব সুবিধা ছাড়া আজকাল আমাদের এক পাও চলে না তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই ফেসবুক। ২০০৪ সালের আজকের দিনটিতেই জন্ম হয় এই সোশ্যাল জায়ান্টের। চলুন এক নজরে জেনে নিই কেমন ছিল ফেসবুকের শৈশব কাল!
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ছোট বেলা থেকেই ছিলেন এক অসাধারণ প্রতিভাবান ছাত্র। ২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি প্রথম তৈরি করেন ফেসবুকের পূর্বসূরি ওয়েবসাইট ফেসম্যাস। এই ওয়েবসাইটে হার্ভার্ডের ৯ টি হাউস এর শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করা হয়। তিনি প্রতি দুইজন শিক্ষার্থীর ছবি পাশাপাশি দেখান এবং হার্ভার্ডের সকল শিক্ষার্থীদের বলেন ভোট দিতে যে কোন ছবিটি হট আর কোন ছবিটি হট নয়। অর্থাৎ, 'হট অর নট'। এই ছবিগুলি সংগ্রহ করতে গিয়ে মার্ক জাকারবার্গ হার্ভার্ডের সংরক্ষিত তথ্য কেন্দ্রের ওয়েবসাইটটি হ্যাঁক করেন। ফেসম্যাস চালু হওয়ার মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৪৫০ জন ভিজিটর ২২০০০ ছবিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভোট দেয়।
২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসেই মার্ক নতুন একটি ওয়েবসাইট তৈরির কাজ শুরু করেন যার মূল অনুপ্রেরণা ছিল পূর্বের ফেসম্যাস। মার্ক মাত্র এক মাসের মধ্যে নতুন সাইটের কোড লেখা শেষ করেন এবং ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে দ্যাফেসবুক.কম এর উদ্বোধন করেন।এই ওয়েবসাইটটির নামকরণ করা হয় ছাত্র-ছাত্রীদের একে অপরের মধ্যে পরিচিতি তৈরির উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া বইয়ের নাম থেকে।
শীঘ্রই ডাস্টিন মস্কোভিৎজ (প্রোগ্রামার), অ্যান্ড্রু ম্যাককলাম (গ্রাফিক্ আর্টিস্ট), ক্রিস হুগেস ও এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন (ব্যবসায়িক মুখপাত্রও) মার্ক জাকারবার্গ এর সাথে যোগ দেন। জুন মাসে প্যালো আল্টোতে নেওয়া হয় ফেসবুকের প্রথম অফিস। এর মাঝেই দ্যা ফেসবুক অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রদের জন্যও খুলে দেয়া হয়। ডিসেম্বর মাসে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা গিয়ে পৌছে ১০ লাখে!
২০০৫ সালের আগস্ট মাসে ‘দ্যা ফেসবুক ডটকম’ নাম পরিবর্তন করে কোম্পানির নাম শুধু ‘ফেসবুক ’ রাখা হয়। এই ডিসেম্বরে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৫৫ লাখে।
২০০৬ সালের আগস্ট মাসে এসে কৌশলগত কারণে মাইক্রোসফট ফেসবুকের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর সেপ্টেম্বর মাস থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ফেসবুক । আগে শুধু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও কর্মীরাই ছিলেন ফেসবুকের ব্যবহারকারী। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে এক কোটি ২০ লাখে গিয়ে ঠেকে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা।
২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ফেসবুকে ভার্চুয়াল গিফট শপ চালু হয়। এপ্রিল মাসে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দুই কোটিতে পৌঁছায়।
২০০৮ এ এসে প্রথমে কানাডা ও ব্রিটেন এবং ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্স ও স্পেনে শুরু হয় ফেসবুকের ব্যবহার। এবছরই এপ্রিল মাসে ফেসবুকে প্রথম চ্যাট সিস্টেম চালু হয়। আগস্ট মাসে ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌছায় ১০ কোটিতে।
২০০৯ এর জানুয়ারিতে ব্যবহারকারী ছিল ১৫ কোটি। এই সংখ্যা ডিসেম্বর মাসে গিয়ে হয় ৩৫ কোটি।
২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যে সংখ্যা ছিল ৪০ কোটি, জুলাই মাস আসতে আসতে সেই সংখ্যা ৫০ কোটিও ছাড়িয়ে যায়। আর ডিসেম্বরে ব্যাবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ কোটিতে গিয়ে পৌঁছায়।
তারপর আর থেমে থাকেনি ফেসবুকের পথচলা। পরবর্তীতে ব্যাবহারকারীর সংখ্যা যেমন কয়েক গুন হারে বেড়েছে, তেমনি ব্যাবহারকারীদের মনে জায়গাও করে নিয়েছে ফেসবুক। তাই আজ যেন আর ফেসবুককে ছাড়া চলেই না আমাদের দিন গুলো!
শুভ জন্মদিন ফেসবুক!
লিখাঃ সাইমুম সালেহীন
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ছোট বেলা থেকেই ছিলেন এক অসাধারণ প্রতিভাবান ছাত্র। ২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি প্রথম তৈরি করেন ফেসবুকের পূর্বসূরি ওয়েবসাইট ফেসম্যাস। এই ওয়েবসাইটে হার্ভার্ডের ৯ টি হাউস এর শিক্ষার্থীদের ছবি ব্যবহার করা হয়। তিনি প্রতি দুইজন শিক্ষার্থীর ছবি পাশাপাশি দেখান এবং হার্ভার্ডের সকল শিক্ষার্থীদের বলেন ভোট দিতে যে কোন ছবিটি হট আর কোন ছবিটি হট নয়। অর্থাৎ, 'হট অর নট'। এই ছবিগুলি সংগ্রহ করতে গিয়ে মার্ক জাকারবার্গ হার্ভার্ডের সংরক্ষিত তথ্য কেন্দ্রের ওয়েবসাইটটি হ্যাঁক করেন। ফেসম্যাস চালু হওয়ার মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৪৫০ জন ভিজিটর ২২০০০ ছবিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভোট দেয়।
২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসেই মার্ক নতুন একটি ওয়েবসাইট তৈরির কাজ শুরু করেন যার মূল অনুপ্রেরণা ছিল পূর্বের ফেসম্যাস। মার্ক মাত্র এক মাসের মধ্যে নতুন সাইটের কোড লেখা শেষ করেন এবং ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে হার্ভার্ডের ডরমিটরিতে দ্যাফেসবুক.কম এর উদ্বোধন করেন।এই ওয়েবসাইটটির নামকরণ করা হয় ছাত্র-ছাত্রীদের একে অপরের মধ্যে পরিচিতি তৈরির উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া বইয়ের নাম থেকে।
শীঘ্রই ডাস্টিন মস্কোভিৎজ (প্রোগ্রামার), অ্যান্ড্রু ম্যাককলাম (গ্রাফিক্ আর্টিস্ট), ক্রিস হুগেস ও এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন (ব্যবসায়িক মুখপাত্রও) মার্ক জাকারবার্গ এর সাথে যোগ দেন। জুন মাসে প্যালো আল্টোতে নেওয়া হয় ফেসবুকের প্রথম অফিস। এর মাঝেই দ্যা ফেসবুক অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রদের জন্যও খুলে দেয়া হয়। ডিসেম্বর মাসে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা গিয়ে পৌছে ১০ লাখে!
২০০৫ সালের আগস্ট মাসে ‘দ্যা ফেসবুক ডটকম’ নাম পরিবর্তন করে কোম্পানির নাম শুধু ‘ফেসবুক ’ রাখা হয়। এই ডিসেম্বরে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৫৫ লাখে।
২০০৬ সালের আগস্ট মাসে এসে কৌশলগত কারণে মাইক্রোসফট ফেসবুকের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর সেপ্টেম্বর মাস থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ফেসবুক । আগে শুধু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও কর্মীরাই ছিলেন ফেসবুকের ব্যবহারকারী। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে এক কোটি ২০ লাখে গিয়ে ঠেকে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা।
২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ফেসবুকে ভার্চুয়াল গিফট শপ চালু হয়। এপ্রিল মাসে ব্যবহারকারীর সংখ্যা দুই কোটিতে পৌঁছায়।
২০০৮ এ এসে প্রথমে কানাডা ও ব্রিটেন এবং ফেব্রুয়ারিতে ফ্রান্স ও স্পেনে শুরু হয় ফেসবুকের ব্যবহার। এবছরই এপ্রিল মাসে ফেসবুকে প্রথম চ্যাট সিস্টেম চালু হয়। আগস্ট মাসে ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌছায় ১০ কোটিতে।
২০০৯ এর জানুয়ারিতে ব্যবহারকারী ছিল ১৫ কোটি। এই সংখ্যা ডিসেম্বর মাসে গিয়ে হয় ৩৫ কোটি।
২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যে সংখ্যা ছিল ৪০ কোটি, জুলাই মাস আসতে আসতে সেই সংখ্যা ৫০ কোটিও ছাড়িয়ে যায়। আর ডিসেম্বরে ব্যাবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ কোটিতে গিয়ে পৌঁছায়।
তারপর আর থেমে থাকেনি ফেসবুকের পথচলা। পরবর্তীতে ব্যাবহারকারীর সংখ্যা যেমন কয়েক গুন হারে বেড়েছে, তেমনি ব্যাবহারকারীদের মনে জায়গাও করে নিয়েছে ফেসবুক। তাই আজ যেন আর ফেসবুককে ছাড়া চলেই না আমাদের দিন গুলো!
শুভ জন্মদিন ফেসবুক!
লিখাঃ সাইমুম সালেহীন

Post a Comment