কিছুক্ষণ পানিতে থাকলে মানুষের হাতের আঙুল কুঁচকে যায় কেন?

আমরা বেশীক্ষণ ধরে পানির কাজ করলে কিংবা গোসল করলে  নিশ্চয়ই লক্ষ্য করছেন আমাদের আঙুলের ডগার চামড়া কুঁচকে যায়।
 
এই বিষয়টি প্রায় প্রত্যেকেই জানেন। কিন্তু জানেন কি,  চামড়াটা কিন্তু আসলে কুঁচকে যায় না। বরং অন্য একটা কিছু ঘটে আর আমরা মনে করি আঙুলের চামড়া কুঁচকে গিয়েছে।
 
চলুন এবার এর কারণটা জেনে নেয়া যাক। আমাদের শরীরের চামড়া তৈরি হয় বেশ কয়টি স্তর দিয়ে । আমাদের চামড়ার এই স্তর গুলির মধ্যে সর্বশেষ স্তরটি হচ্ছে এপিডারমিস। দেহের এই এপিডারমিস স্তর থেকে সেবাম নামক একধরনের তৈলাক্ত পদার্থ নির্গত হয় । এই সেবাম আমাদের চামড়ার জন্য একটি প্রতিরক্ষা পর্দা হিসেবে কাজ করে। লক্ষ্য করলে দেখবেন আমরা কাঁচ কিংবা অন্যান্য কোন মসৃণ তল স্পর্শ করলে তাতে আমাদের হাতের ছাপ বসে যায়। যেটাকে আমরা ফিঙ্গার প্রিন্ট বলে থাকি। আমাদের হাত একম পরিস্কার থাকলেও কিন্তু এটি হয়ে থাকে। এই তৈলাক্ত ছাপটিই আসলে সেবাম। চামড়ায় সেবামের উপস্থিতির কারণেই এই বিষয়টি হয়ে থাকে। যখন আমরা কিছু সময় পানির সংস্পর্শে থাকি তখন সেবামের উপস্থিতির কারণে পানি আমাদের চামড়ার ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু বেশি সময় ধরে পানির সংস্পর্শে থাকলে আমাদের হাতের সেবাম চলে যায় এবং চামড়ার ভেতরের স্তরে পানি প্রবেশ করে। অর্থাৎ, আমাদের চামড়া পানি শোষণ করে। ফলে এপিডারমিসের ভেতরের স্তর ডারমিসে পানি প্রবেশ করে। এসময় চামড়ার যে স্থানগুলোতে ডারমিস ও এপিডারমিসের মধ্যকার বন্ধন থাকে সেসব স্থান আগের মতোই থাকে কিন্তু যেসব স্থানে ডারমিস ও এপিডারমিসের মধ্যকার বন্ধন থাকে না সেসব স্থান পানি শোষণ করায় ফুলে যায় ।তাই আমাদের মনে হয় চামড়া কুঁচকে গিয়েছে বা স্বাভাবিক দৃষ্টিতে আমরা তাই দেখি।