তবে কি বর্তমান ভারতীয় পরিস্থিতি গাজওয়াতুল হিন্দ এর আলামত?


ইসলামের সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর একটি ভবিষ্যদ্বাণী হচ্ছে গাজওয়াতুল হিন্দ। এই ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম এবং অমুসলিমদের মধ্যে একটি যুদ্ধ হবে এবং এই যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় ঘটবে। কখন হবে গাজওয়ায়ে হিন্দ?

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ হিন্দুস্তানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন,
“অবশ্যই আমাদের একটি দল হিন্দুস্তানের সাথে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ্ সেই দলের যোদ্ধাদের সফলতা দান করবেন, আর তারা রাজাদের শিকল/বেড়ি দিয়ে টেনে আনবে । এবং আল্লাহ্ সেই যোদ্ধাদের ক্ষমা করে দিবেন (এই বরকতময় যুদ্ধের দরুন)। এবং যে মুসলিমেরা ফিরে আসবে তারা ঈসা ইবনে মারিয়াম আঃ কে সিরিয়ায় (শাম) পাবে।“
হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বলেন, “ আমি যদি সেই গাযওয়া পেতাম, তাহলে আমার সকল পুরাতন ও নতুন সামগ্রী বিক্রি করে দিতাম এবং এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতাম । যখন আল্লাহ্ (সুবঃ) আমাদের সফলতা দান করতেন এবং আমরা ফিরে আসতাম, তখন আমি হতাম একজন মুক্ত আবু হুরায়রা ; যে কিনা ফিরত সিরিয়াতে হযরত ঈসা আঃ কে পাবার গর্ব নিয়ে । ও মুহাম্মাদ সাঃ ! এটা আমার গভীর ইচ্ছা যে আমি ঈসা আঃ এর এত নিকটবর্তী হতে পারতাম যেন আমি তাকে বলতে পারি যে আমি মুহাম্মাদের সাঃ একজন সাহাবী ।
”বর্ণনাকারী বলেন এ সময় মুহাম্মাদ (সঃ) মুচকি হেসে বললেনঃ ‘ খুব কঠিন, খুব কঠিন ’ (মুসনাদে আহমাদ, শাইখ নাসের উদ্দিন আলবানী রহঃ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন)

হাদীসে আরও উল্লেখ পাওয়া যায়, নবীজী সাঃ বলেছেনঃ
"আমার উম্মতের দুটি দল কে আল্লাহ্ তা‘আলা জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ দান করবেন। এদের একদল যারা হিন্দুস্থানের জিহাদে অংশগ্রহণ করবে, আর একদল যারা ঈসা ইবন মারিয়াম আঃ -এর সঙ্গে থাকবে।"


হযরত কা’ব রাঃ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
"বায়তুল মোকাদ্দাসের (জেরুজালেমের) একজন শাসক হিন্দুস্তানের দিকে সৈন্য প্রেরণ করবেন এবং সেখানের যাবতীয় সম্পদ ছিনিয়ে নিবেন। ঐ সময় হিন্দুস্তান বায়তুল মোকাদ্দাসের (জেরুজালেমের) একটি অংশ হয়ে যাবে। তার সামনে হিন্দুস্তানের সেনা বাহিনী বন্দী অবস্থায় পেশ করা হবে। প্রায় গোটা পৃথিবী থাকবে তার শাসনের অধীনে। দাজ্জালের আবির্ভাব হওয়া পর্যন্ত ভারতে তাদের অবস্থান থাকবে"।
— আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১২৩৫



এখন কথা হচ্ছে কে এই বায়তুল মোকাদ্দাসের শাসক ? কয়েকটা পয়েন্ট খেয়াল করি।
এক, হিন্দের যুদ্ধে যোদ্ধাদের পাঠাবেন জেরুজালেমের এক অধিপতি। দুই, তারা হযরত ঈসাকে পাবেন শাম দেশে বা সিরিয়ায়। তিন, হযরত ঈসা আঃ ইমাম মাহদীর এবং দাজ্জালের আবির্ভাবের পরে আসবেন।
তাহলে- আমরা কি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে, জেরুজালেমের সেই শাসক হবেন ইমাম মাহদী। তিনি হযরত ঈসা আসার আগেই জেরুজালেম দখল করবেন। এবং হিন্দে সৈন্য প্রেরণ করবেন।  হযরত ঈসা আঃ এর আগমন সংক্রান্ত হাদীসে উল্লেখ আছে তিনি ফজরের নামাজের সময় বায়তুল মোকাদ্দাসে অবতরন করবেন এবং ঈমাম মাহদীর ইমামতিতে নামাজ আদায় করবেন। অর্থাৎ তার আগেই ইমাম মাহদী বায়তুল মোকাদ্দাস দখল করবেন। কাজেই জেরুজালেমের সেই অধিপতি খোদ্ ইমাম মাহদী হতে পারেন। তবে ইমাম মাহদীর কোনও প্রতিনিধিও হতে পারেন । আল্লাহু এবং তার রাসূলই ভালো জানেন। অধিকাংশ আলেমগনের ধারণা ইমাম মাহদীর আগমনের সময় প্রায় হয়ে গেছে। বেশিরভাগ আলামতই মিলে গেছে। এমনকি, রাসূল সাঃ এর ভবিষ্যদ্বাণীর ওপর গবেষণা করে অনেকে ধারণা করছেন আগামী ৬-৭ বছরের মধ্যেই ইমাম মাহদীর আগমন ঘটতে পারে।

চলুন আরেকটু ভেঙেচুড়ে সাজাই।
১. আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইমাম মাহদীর আগমন ঘটতে পারে।
২. তিনি জেরুজালেম দখল করবেন।
৩. জেরুজালেমের একজন শাসক হিন্দুস্তানে সৈন্য পাঠাবেন এবং তারা বিজয়ী হবে। এই যুদ্ধই গাজওয়াতুল হিন্দ। সেই শাসক পৃথিবীর অধিকাংশ স্থান দখল করবেন।
৪. দাজ্জালের আবির্ভাব পর্যন্ত তার সৈন্যরা ভারতে অবস্থান করবেন।
৫. দাজ্জালের আবির্ভাব হওয়ার পর আসবেন হযরত ঈসা আঃ।
৬. যুদ্ধ ফেরত সৈন্যরা ঈসা আঃ কে সিরিয়াতে পাবে।

তাহলে, আজকের ভারতের পরিস্থিতি ও বিশ্বের পরিস্থিতি গাজওয়াতুল হিন্দের  পূর্বাভাস হতে পারে কি? বিবেচনা আপনাদের।