এক অপরিচিতার অপেক্ষায়
ক্যাম্পাসের পথ ধরেই হাঁটছিলাম। কানে হেডফোন, পকেটে দু'হাত ভরে নিয়ে অনেকটা আনমনা ভঙিমায়। চারদিকটা কেমন কুয়াশার চাদরে লুকিয়ে নিঃস্তব্ধ হয়ে আছে। এর মাঝে রাস্তায় দু' চারজনকে হেঁটে চলে যেতে দেখা যাচ্ছে। শীতের সকালের ক্যাম্পাসের চিত্রটা সাধারণত এমনই হয়। মাঝে মধ্যে নিঃস্তব্ধতা ভেঙে পাখির কলতান শোনা যায়। পাখির কলতানে সকালটা আরো মধুর মনে হয়। তাই এই সময়টায় হাটাহাটি করতে বিশেষ ভালো লাগে।
হাটাহাটির এক পর্যায়ে কেমন যেন এক অজানা আকর্ষণে পা দুটি থামালাম। স্তব্ধ দাঁড়িয়ে একটু ডানদিকে ঘুরে অজান্তেই কান থেকে হেডফোনটা নামিয়ে নিলাম পুরো দৃশ্যটা বাস্তবসম্মত চোখে অবলোকন করার জন্য। মূহুর্তেই নিজের চোখগুলোর পরিবর্তিত রূপ অনুধাবন করতে লাগলাম। কেউ কিভাবে কারো দিকে এতটা সময় অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে পারে তা আগে জানা ছিল না। কিন্তু তা আজ নিজ সত্ত্বা থেকেই আবিষ্কার করে খানিকটা বিষ্মিত হলাম। কিছুক্ষণের জন্য মনে হলো কোন এক অজানায় হাড়িয়ে সেটার রূপ তৃপ্তি নিয়ে পান করছি। লোকে কি ভাববে তা ভেবে খানিকটা লজ্জিত অনুভব করছিলাম এবং ঘোর কাটিয়ে দৃষ্টি পরিবর্তন করে আস্তে আস্তে পথ চলতে শুরু করলাম।
শত রমণী জাগাতে পারেনি যার ঘুমন্ত হৃদয় সেই তার মনেই আজ এমন পরিবর্তন, ব্যাপারটা নিজের কাছেই কেমন অদ্ভুদ লাগল। একজন মহীয়সী পথচারীনী যে এভাবে মনের কিনারায় জোয়ার উঠিয়ে যাবে তা আগে থেকে কল্পনা করতে পারলেও হয়ত বিষ্ময়টা একটু কম হতো। স্বর্গীয় সৌন্দর্যের সব নির্যাস যার মধ্যে বর্তমান সে যে কারো অন্তরেই ঝড় বয়ে আনতে পারে। এতে দ্বিমত নেই। আর যাকে দেখে মনে হবে পৃথিবীর সব রূপ মাধুর্যের ডালা সাজিয়ে বসে আছে কোন অপার সম্ভাবনায়।
আচ্ছা..... এ আকাশের কোন পরী নয় তো?
ভেবেই দ্রুত পেছন ফিরে তাকালাম।
তার চলে যাওয়ার পথটা শূন্য হওয়ায় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবারো পথ চলতে শুরু করলাম।
দিনশেষে ক্লান্তির পাহাড় নিয়ে যখন রাত্রে বিছানায় টান হয়ে চোখ বন্ধ করলাম তখন বারবার সকালের সেই মেয়েটার ছবিই ভেসে আসছে। অহেতুক ভাবনাগুলো খুব সহজেই ঘুমের ঘরে বসে নিজেকে এলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।
- মেয়েটা কি সত্যিই এতো সুন্দর?
- সত্যিই কি নয়নাভিরাম তার রূপ?
- নাকি সদ্য জাগ্রত চোখে প্রথম দৃষ্টিপাত বলে সৌন্দর্যটা খুব বেশি মনে হচ্ছিল?
- নাকি পুরো ঘটনাটাই কল্পনা ছিল?
ভাবতে ভাবতে মনে হলো, সারাদিন এতো এতো মেয়েদের চোখে পড়ল কিন্তু ওর চেহারাই আলাদা করে চোখে ভাসছে কেন? মনে হচ্ছে, দিনের সকল কার্যক্রম দিয়ে যদি একটি গল্প লেখা যায় তবে সেই স্বল্প মূহুর্তটাকে নিয়েও একটি উপন্যাস তৈরী করে ফেলা যাবে। দিনশেষে তার ভাবনায় ডুবে যেতে খুব একটা পরিশ্রান্ত মনে হচ্ছে না। বেশ ভালই লাগছে...
কিছুদিন পর...
রাস্তার পাশের দোকানটায় বসে চা খাচ্ছিলাম। সবেমাত্র কুয়াশা ভেদ করে পূবের সূর্য মুচকি দিয়ে হেসে উঠছে। সকালের ঠান্ডা শিরশির বাতাসও আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির এমন পরিবর্তনের সাথে সকালের সদ্য ওঠা মিষ্টি রোদে চা টাও যেন অমৃত মনে হচ্ছে। চায়ে চুমুক দিতে দিতে মনে হলো সেদিনের সেই রূপবতী পথচারীনির কথা। এই পথটা দিয়েই তো সেদিন আমার মনের ক্রিয়াকলাপের আলোড়ন ঘটিয়ে যাচ্ছিল। কেমন হতো যদি আজো ঘটনাটার পূনরাবৃত্তি হতো? ভাবতে ভাবতে দিগন্তে তাকিয়ে চোখ ফেরানোর আর জো রইল না।
সে আবার আসছে...
তার রুক্ষ চুলগুলো এলিয়ে দিয়ে রিক্সায় চেপে এদিকেই এগিয়ে আসছে। যেন কোন এক রাজ্যের রাণী রাজ সিংহাসনে বসে তার রাজ্যের তদারকি করছে। ভাবতে ভাবতে মনে হলো আবারো আমি তার চোখের জালে আবদ্ধ হয়ে গেছি। মূহুর্তেই মনে হচ্ছিল স্বর্গস্নাত কেউ পাশ দিয়ে তার সুগন্ধ ছড়িয়ে যাচ্ছে আর আমি পরম তৃপ্তিতে তা নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করছি। এক অন্যরকম অনূভুতির পর ঘোর কেটে গেল। কিন্তু ঘোর কাটিয়ে ওঠার আগেই রিক্সাটা দৃষ্টির অগোচরে চলে গেল। দৌড়ে রাস্তার মাথায় গিয়ে ডানে বামে তাকিয়ে কিছুই দেখতে পেলাম না। মনে হচ্ছিল প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যকে সাথে নিয়ে সে তার অচীন গন্তব্যে পাড়ি দিয়েছে।
নিচে তাকাতেই দেখতে পেলাম চায়ের কাপটা এখনো হাতেই রয়ে গিয়েছে। দোকানী হয়ত পেছন থেকে ডেকে বলেছিল,
-"এ্যাঁই ভাই, কাপ নিয়া কই যান? কাপটা দিয়ে যান?
কিন্তু শুনতে পাইনি।
এবার ঠিক করে নিয়েছি, এরপর যখনই তার দেখা পাব সব মুগ্ধতাকে কাটিয়ে উঠে তার সাথে কথোপকথনের চেষ্টা করব।
( কিন্তু এই চেষ্টাটা যে বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে তা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি)
হ্যাঁ। সেই গল্পই শোনাব এখন ...
বুঝতে পারলাম আমি ধীরে ধীরে তার মায়ার চাদরে আটকে যাচ্ছি। তার ভাবনায় চারদিকের পৃথিবীটা এখন আরো সুন্দর হয়ে উঠছে। কবি সাহিত্যিকরা বলেছেন প্রেমে পড়লে নাকি সবকিছু রঙিন মনে হয়। সবকিছুতেই নাকি ভালোলাগা কাজ করে। ওইতো, গাছের পাতাগুলোও আজ আরো উজ্জ্বল মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে কোন চিত্রকর তার পুরোনো ধূসর ছবিটায় তুলির রঙে রাঙিয়ে পূনরায় প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
তাহলে তো আমিও প্রেমে পড়লাম, সেই লাবণ্যময়ীর মায়ার মাধূর্যে!
- হয়তবা!
তার ভাবনায় সকালের শুরু এবং তাকে সাথে নিয়েই ঘুমের ঘোরে মিলিয়ে যাওয়া এখন প্রতিদিনকার রুটিনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রতিনিয়তই তাকে ভাবছি, প্রতিদিনই ভালবাসছি। গতকালের চেয়ে একটু বেশি কিন্তু আগামীকালের চেয়ে কম। এভাবে তার প্রতি আমার ভালবাসা ক্রমেই দ্বিগুণ হচ্ছে।
হে অপরিচিতা , তুমি কি জানো? তোমার মুগ্ধতায় কেউ তার দিন রাত্রি এক করে নিয়েছে? তোমায় রাঙিয়ে দিতে রচনা করে চলেছি কত শত গল্প কবিতা। সেই কবিতার মাঝে তোমায় তৃপ্তিভরে অনুভবের চেষ্টা চলে অবিরত। আর একটা সাক্ষাৎকারের অপেক্ষা। তুমি জেনে যাবে আমার মনের সব জমানো অভিব্যক্তি। আমার মুখে হঠাৎ বেহায়ার মতো ভালবাসার কথা শুনে হয়ত ফান বলে চালিয়ে দিবে। হয়তবা ভাববে...., অচেনা কাউকে কেউ কিভাবে হুট করে ভালোবাসার কথা বলে? লজ্জাবোধ ও তো থাকা উচিত।
তোমার কাছে হয়ত ব্যাপারটা বিস্ময় ও বিরক্তিকর মনে হবে। তোমার কাছে হয়ত আমি আগুন্তুক বৈকি কেউ নই, কিন্তু আমার কাছে তো তুমি সেরকম কেউ নও! তুমি জানো না, আমার মনের মধ্যে বেড়ে ওঠা এক অনন্যা তুমি যে আমার গত দু'মাসের প্রতিটা দিনই অনন্য করে তুলেছে।
তুমি কি জানো, পৃথিবীর সকল উদাসীনতা আজ আমায় ভর করে আছে! কতদিন ধরে তোমার অপেক্ষায় আমার চাঞ্চল্য প্রহরগুলোকে বলি দিচ্ছি তুমি কি তা জানো? তুমি বলে গিয়েছিলে তোমার সেই মায়াবী চোখের বোলে,
"অপেক্ষায় থেকো, মনে রেখো আমায়। আমি ফিরে আসব তোমার আলয়ে, তোমারই ভালবাসায়।
হ্যাঁ। আমি ভালবাসবো তোমায়, যতটা ভালবাসলে তুমি ঘুচে যাবে আমার মনের গহীনে অচিরেই।
তুমি জানো, সেদিন ক্যাম্পাসে তোমায় অনেক খুঁজেছি। কি অদ্ভুদ, তুমিতো হাড়িয়েই গেলেই সাথে রিক্সাটাও নিয়ে নিলে? এ কেমন অগ্নিপরীক্ষা ফেলে তুমি আমায় হাড়িয়ে দিতে চাও?
আজ ক্যাম্পাসের প্রতিটা মেয়ের মুখ আমার পরিচিত। কি না করেছি তোমায় খুঁজতে গিয়ে? তাদের হাতে ঠাস ঠাস থাপ্পড় খেয়ে তাদের মধ্যে তুমিহীনতার বিড়াট সন্দিহানমুক্ত হয়েছি। হয়েছি রিক্সাওয়ালাদের বিরক্তির শিকার। আজকাল বন্ধুদের মুখেও আমার পরিবর্তের কথা শোনা যায়। আমার ঔদাসীন্যতা তাদের আমাকে নিয়ে বিরক্তির প্রধান কারন। মাঝে মাঝে তাদের উপহাসও গিলতে হয়। তবুও সব সহ্য করে তোমার ভাবনায় ডুবে থাকতেই ভাল লাগে। সেই প্রথম দিনেই তোমার ছবি মনের মধ্যে এঁকে নিয়েছিলাম।
মনের ভেতর সৃষ্টি করে নিয়েছিলাম তোমার কাল্পনিক অবয়ব। তুমি সেখানে বসে জানান দিচ্ছিলে যে, আবার একদিন দৃশ্যমান হবে তুমি। প্রথম দিনের মতো আবারো সেই পথ আলোড়িত করে হেটে যাবে। সেদিন সব মুগ্ধতাকে সাথে নিয়ে তোমার হাতটা ধরে ধীরে ধীরে হেটে যাব দিগন্তের শেষ মাথায়। লজ্জারা সব ঘিরে ধরবে আমাদের চারপাশ। এরই মাঝে হঠাৎ তোমার রূপের প্রশংসায় ডুবে গিয়ে লাল করে দিব তোমার আদুরে বদনখানি। তুমি লজ্জায় মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলবে "যাহ দুষ্টু"। ক্রমাগত বলে যাব "ভালবাসি তোমায়"। একে অপরের চোখে হাড়িয়ে গিয়ে পান করব প্রেমের অমৃত সুধা। মাটির বুকে যেমন ঠাঁই পেয়েছে পৃথিবীর সকল জড় ও জীব এবং আগলে রাখছে অনন্তকাল ধরে, ঠিক তেমনি করে তুমি রবে আমার হৃদয়ের অন্তঃস্থলে দিন থেকে রাত, রাত থেকে দিন চিরকাল। আমাদের প্রেম হবে লোকের উপলব্ধিরও বাইরে। প্রেমের এক বিরল দৃষ্টান্ত তৈরী হবে তোমার অামার।
কয়েকমাস পরের কথা। ছাদে চেয়ারে আধশোয়া হয়ে বসে আছি আর কিছু একটা ভেবে চলেছি।
আজকের রাতটা ভারী সুন্দর লাগছে। মুচকী দিয়ে হাসছে আকাশের ফুটফুটে চাঁদটা। ছাদের মেঝেতে থই থই করছে জোৎস্না। কখনও কখনও জোৎস্নার নদী বইয়ে দিচ্ছে ছাদের পুরোটায়। হঠাৎ সেই জোৎস্নার আধো আধো আলোতে সিঁরিঘর থেকে কাউকে এদিকে এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। নারীদেহি কেউ একজন। হঠাৎ করেই সেই পুরোনা অনূভুতিটা উপলব্ধি করতে পারলাম। সেই পরিচিত গন্ধটাও মিহিন বাতাসের সঙ্গে বিড়বিড় করে নাকে এসে লাগলো। আধশোয়া থেকে উঠে বসলাম। দৃশ্যমান হতে হতে যেন সবকিছু পালটে যেতে লাগলো। হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে লক্ষ্য করলাম। প্রকৃতির অপরূপ সব নির্যাস মনের মধ্যে এসে এক অন্যরকমভাবে সবকিছু পালটে দিতে লাগলো। আমার সব অধীরতাকে উপেক্ষা করে সে কাছে আসল।
খুব কাছে এসে নুইয়ে হালকা জিজ্ঞাসু গলায় বলল,
- কতটা ভালবাসো আমায়?
এই প্রথম তার অস্ফুট কন্ঠের মধুর বাক্য আমার কানে এসে এক অন্যরকম মাতাল বানিয়ে দিল। আমি তোতলাতে তোতলাতে বললাম,
- তু-তু-তু-তুমি?
সে হালকা মুচকি হাসি দিয়ে বলল,
- হ্যাঁ, আমি। কেন? আমাকে আশা করনি?
নিজের চোখকে তখনও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তাই নিজের হাতেই হালকা চিমটি কেটে পরখ করে নিলাম। ডানে বায়ে তাকিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে ছাদের রেলিংয়ের প্রত্যেক ধারে গিয়ে নিচে ঝুকে তাকে খুজতে লাগলাম। দৌড়ে নিচে নেমে এসে রাস্তার প্রতিটি মোড়ে তাকে পাগলের মতো খুজলাম।
- কেন খালি খালি চিমটি কাটতে গেলাম? নিজের উপরই এখন ভীষন রাগ হচ্ছে। ওকে নিয়ে স্বপ্ন দেখাটাও তো কম কিছু ছিল না।
প্রেয়সী, তুমি এমন করে কেন আসো? কখনও কি আর দেখা মিলবে না তোমার.. এই ভূগোলে? হয়ত তুমি আমার ভালবাসা ধূসর হতে দিতে চাও না। তাই হয়ত মাঝে মাঝে স্বপ্নে এসে আমার ভাবনাগুলোতে নতুনের রঙ মেখে দাও।
এভাবেই কি তোমায় ভালবাসতে হবে? আর কতদিন চোখদুটো অন্তর্মুখী করে রাখবো তোমার জন্য। মাঝে মাঝে তোমার কথা ভাবতে ভাবতে রাস্তায় হেটে যাওয়া মেয়েদের তুমি ভেবে ভুল করি। একদিন জানো, তোমার মতই একজন ওই রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিল। তুমি ভেবে তাকে জড়িয়ে ধরে অনর্গল "ভালবাসি" বলতে লাগলাম। তাকে অনেক্ষণ চেপে ধরে আলিঙ্গন করছিলাম আর ভেজা ভেজা গলায় বলছিলাম,
- কোথায় হাড়িয়ে গিয়েছিলে তুমি? আমার হাহাকার কি তোমার চেতনায় একটুও প্রকম্পিত করে না? কথা দাও আর কখনও এভাবে হাড়িয়ে যাবে না। শুধু বলেই যাচ্ছিলাম... আর তার নিরবতা অনুভব করছিলাম। অনেক ভালবাসি তোমায়... অনেক।
যখন একটুপর তার মুখখানি আমার হাতের মুঠোয় এনে জাপটে ধরে তার দিকে তাকালাম তখন বুঝতে পারলাম এ তুমি নও। সে ছিল মালিহা। এরপর থেকে লজ্জায় আর তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না। মাথা ঘুরিয়ে সেদিনের মত সরি বলে কেটে পড়লাম।
দেখতে দেখতে পাচটি মাস কেটে গেল। অনূভুতিগুলো এখনো অটুট ও সজীব রয়ে গেছে। আর তার মুগ্ধতার প্রনয় এখন আমায় আমার পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দিয়েছে। এই জগতের সবকিছুই এখন মূল্যহীন মনে হয়। কারন, সে আছে আমার কল্পনায়- আমার চিত্তে যেখানে শুধু তাকে নিয়েই আমার অলীক জগত। প্রতিদিনই এ জগতে তাকে ভিন্ন ধারায় ভালবাসছি আর অপেক্ষায় আছি তার অবয়বের। এ শুধু অপেক্ষাই নয়... এ তার কামনায় এক মন্দ্র প্রতীক্ষা। যে প্রতিক্ষা খুব জোড়ালো। যে প্রতিক্ষা বদলে দিতে পারে ঘড়ির ঘূর্ণায়মান কাটার ছুটে চলার গতিপথ। গোটা পৃথিবী তখন ঢেকে পড়ে আবেগের ছায়াছন্নতায়। এ আবেগ যে কাউকে অসত্য অপেক্ষায় গুটিয়ে ফেলতে পারে অনন্তকাল ধরে।
২ বছর পর ...
আজ আমি ক্যাম্পাসে নেই। তবুও মাঝে মাঝে এখানে আসি। দু'বছর আগের মতো করে আবারো হেটে চলি। আবারো সেই কাপে চুমুক দেই। আমার বিশ্বাস, অতীত বারবার ফিরে আসে। আর আসে তার সকল অমঙ্গলের মঙ্গল নিয়ে, সকল অশুভর সুকৃতি নিয়ে, সকল অপ্রাপ্তির প্রাপ্তি নিয়ে। হ্যাঁ, সেও আসবে। আমার মনের তৃপ্ততা নিয়ে। সেই পথটায় আজো বসে থাকি এমন একটা মূহুর্তের অপেক্ষায়। অপেক্ষায় থাকি কখন সে দূরের কুয়াশা ভেদ করে এলোচুলে আবার দৃশ্যমান হবে।
আর মাত্র একটি প্রহর। তারপরই সেই অপরিচিতা আসবে। আমার মনের মাঝে তার ছিটিয়ে দেওয়া বীজের ফসল চাইতে যেগুলো আস্তে আস্তে বাড়িয়ে তুলেছি আমার পরম আবেগের প্ররাক্রমে। অবশেষে সকল অপেক্ষার অবসান ঘটবে। উদ্ভুত হবে আমার সকল গুপ্ত ভালবাসার।

Post a Comment