যেসব দিক দিয়ে ভারতের থেকেও এগিয়ে বাংলাদেশ । জিওটেল বাংলা

দক্ষিন এশিয়ার সবচেয়ে বড় এবং পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম দেশ হলো ভারত। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতিসহ বিভিন্নভাবে সুপরিচিতি এই দেশটির ব্যবসায়িক ও সামরিক উন্নয়নও উল্লেখ করার মতো। এতোকিছুর পরও এমনসব ব্যাপার রয়েছে যেগুলোতে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ প্রতিবেশি দেশ ভারতের থেকেও এগিয়ে আছে। আজকে আমি সেই সকল বিষয়গুলোকেই তুলে ধরার চেষ্টা করব যেগুলোতে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ বেশ খানিকটা এগিয়ে আছে।
জিডিপি গ্রোথঃ গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের অর্থনীতি ভারতের থেকে দ্রুত গতিতে বাড়ছে। আইএমএফ এর হিসাব মতে ২০১৯ সালে রুয়ান্ডার পর বাংলাদেশই হবে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশ। অর্থাৎ এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে দ্বিতীয় এবং ঠিক তার পরেই ভারতের স্থান।
জিডিপি গ্রোথ রেট
গড় আয়ু, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণ, জন্মনিয়ন্ত্রণ, স্যানিটেশন এবং শিক্ষাসুবিধার ক্ষেত্রেও ভারতের থেকে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। গড় আয়ু বাংলাদেশে যেখানে ৭২ বছর ভারতে এর পরিমান মাত্র ৬৮ বছর।
ভারতের গড় আয়ু
বাংলাদেশের গড় আয়ু
নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের সাফল্য উল্লেখ করার মতো। বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে অনেক এগিয়ে রয়েছে বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে। বাংলাদেশী নারীদের মাথাপিছু আয় ভারতীয় নারীদের থেকেও বেশি। নারী পুরুষ লিঙ্গ সমতায় বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান যেখানে ৪৮ তম সেখানে এ র্যাংকিংইয়ে ভারত ১০৮তম অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের থেকে অনেক পিছিয়ে আছে।
লিঙ্গ সমতায় বাংলাদেশ ও ভারত
বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুপুষ্টি, শিশু মৃত্যুর হার ও জন্মহার কমিয়ে আনতে সফল হয়েছে বাংলাদেশ। শিশুমৃত্যুর হার বাংলাদেশে এখন হাজারে ২৭ জন। কিন্তু ভারতে এর পরিমান প্রতি ১ হাজারে ৩২ জন করে। বিশ্বের যে সকল দেশ সবচেয়ে দ্রুত ফার্টিলিটি রেট কমাতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। স্বাধীনতার সময় যেখানে বাংলাদেশের ফাটিলিটি রেট ছিল ৬.৯৪, বর্তমানে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ১.২ এর কোঠায় যা ভারতের থেকে অনেক কম।
বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে নিচের ভিডিওটি দেখুন

দারিদ্রতা দূরীকরণেও বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ হিসেবে শূন্য হাতে শুরু করা বাংলাদেশে আজ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা মানুষের সংখ্যা প্রায় ভারতের সমান এবং কিছু কিছু সূত্র মতে ভারতের থেকেও কম।।
পরিবেশ দুষণে ভারত অনেকটাই এগিয়ে আছে যদিও বাংলাদেশ এ দিক দিয়ে কম এগিয়ে নেই। বায়ু দূষনে ভারতের রাজধানী দিল্লীর অবস্থান ১ম এবং তার পরেই অর্থাৎ ২য় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।
সবশেষে বলতে চাই, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশ ছিল পৃথিবীর দরিদ্রতম দেশ গুলির মধ্যে অন্যতম। আর তার দু তিন বছর পরেই এক ভয়ংকর দুর্ভিক্ষে যখন প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় তখন সবার কাছেই বাংলাদেশ ছিল অবজ্ঞার পাত্র। এতোকিছু বিবেচনা করলে এই স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের অর্জন খুব সম্ভবত ভারতের তুলনায় অনেক বেশি চমকপ্রদ।
তবে বলতে হয়, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ ও ভারত অনেকখানিই পিছিয়ে আছে এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আশা করব উভয় দেশই খুব দ্রুততার সাথে পৃথিবীর উন্নত দুই দেশের তালিকায় জায়গা করে নেবে।